দ্রুত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১ লাখ ৩০ হাজার এনআইডি সংশোধন আবেদন

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড অপরিহার্য একটি ডকুমেন্ট। যেকোন সেবা গ্রহণ, পাসপোর্ট তৈরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা…

এনআইডি সংশোধন আবেদন কখন অনুমোদন হবে

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড অপরিহার্য একটি ডকুমেন্ট। যেকোন সেবা গ্রহণ, পাসপোর্ট তৈরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সবখানেই এটি লাগে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তখন, যখন এই কার্ডে কোনো ভুল থাকে। আর সেই ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যাও কম নয়।

সম্প্রতি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ এস এম হুমায়ুন কবীর এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য শেয়ার করেছেন। আজকের ব্লগে আমরা জানবো কেন, এত বেশি পরিমাণ আবেদনের জট তৈরি হলো এবং যারা অপেক্ষায় আছেন তাদের জন্য সুখবরটা কী।

১ লাখ ৩০ হাজার আবেদনের পাহাড়

গত বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে এনআইডি ডিজি এ এস এম হুমায়ুন কবীর জানান যে, বর্তমানে তাদের সার্ভারে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার সংশোধনের আবেদন পেন্ডিং বা ঝুলে আছে। সংখ্যাটা শুনে মনে হতে পারে বিশাল এক জট, কিন্তু এর পেছনের কারণটা আমাদের বোঝা দরকার।

ডিজি মহোদয় জানিয়েছেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্বাভাবিকভাবেই এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। নির্বাচনের আগে ঝুলে থাকা আবেদনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৫ থেকে ৭৬ হাজার। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী কয়েক মাসে নতুন আবেদনের সংখ্যা বাড়ায় এবং কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত থাকায় এই সংখ্যাটি এখন ১ লাখ ৩০ হাজারে এসে ঠেকেছে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, “আমি আবেদন করলাম অথচ কাজ হচ্ছে না কেন?” তবে আশার কথা হলো, বর্তমান মহাপরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন। অর্থাৎ, সিস্টেম থেমে নেই। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের মাঝে ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদন পেন্ডিং থাকলেও সেগুলোর কাজ দ্রুত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

কেন এই দেরি? আপনার আবেদনটি ঝুলে থাকার সম্ভাব্য কারণ

কেন আপনার আবেদনটি ১ লাখ ৩০ হাজারের তালিকায় পড়ে থাকতে পারে:

  1. তথ্য ও প্রমাণের অভাব: আপনি যে সংশোধনটি চাইছেন, সেটির স্বপক্ষে দেওয়া কাগজপত্রের (যেমন: জন্মসনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ) সাথে তথ্যের অমিল থাকলে কর্মকর্তারা সেটি যাচাইয়ের জন্য সময় নেন।
  2. ক্যাটাগরি বিভাজন: এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলো গুরুত্ব এবং জটিলতা অনুযায়ী ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ এবং ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। ক্যাটাগরি ‘গ’ বা ‘ঘ’ এর ক্ষেত্রে অধিকতর তদন্ত বা শুনানির প্রয়োজন হয়, যা সময়সাপেক্ষ।
  3. আঞ্চলিক কার্যালয়ের জট: অনেক সময় কেন্দ্রীয় সার্ভারের চেয়ে স্থানীয় বা উপজেলা নির্বাচন অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন আসতে দেরি হওয়ার কারণে আবেদন পেন্ডিং দেখায়।

নতুন এনআইডি সংশোধন আবেদনকারীদের জন্য কিছু টিপস

যারা নতুনভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন করবেন, তারা অবশ্যই সঠিক প্রমাণপত্র আপলোড করে আবেদন সাবমটি করবেন। এজন্য আপনারা অবশ্যই আগে দেখে নিবেন এনআইডি সংশোধন করতে কি কি লাগে

আপনার এনআইডি সংশোধনের আবেদনটি যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, সেজন্য আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:

  • সঠিক ডকুমেন্ট আপলোড করুন: আপনার আবেদন যদি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তবে নিশ্চিত করুন আপনি সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণটি (যেমন: এসএসসির সার্টিফিকেট বা অনলাইন জন্মসনদ) আপলোড করেছেন।
  • অনলাইন স্ট্যাটাস চেক করুন: নিয়মিত এনআইডি পোর্টালে লগ-ইন করে দেখুন আপনার আবেদনে কোনো ‘Observation’ বা নোট দেওয়া হয়েছে কি না। অনেক সময় কর্মকর্তারা বাড়তি কাগজ চান যা গ্রাহক খেয়াল করেন না।
  • ধৈর্য ধরুন: যেহেতু নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে তারা এই জট নিরসনে কাজ করছে, তাই দালালের খপ্পরে না পড়ে সরকারি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আপনাদের কি নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার প্রয়োজন আছে?

সংশোধন আবেদন পেন্ডিং থাকলে অনেকেই অস্থির হয়ে ঢাকা বা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। এ ব্যাপারে এনআইডি ডিজি একটি অত্যন্ত পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন: “কাউকে সংশোধনের জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনে আসার প্রয়োজন নেই।”

তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, পর্যায়ক্রমে সকল আবেদন যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করা হবে। অনলাইনে আবেদন করে থাকলে আপনি ঘরে বসেই আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন এবং কাজ হয়ে গেলে আপনার ফোনে এসএমএস চলে আসবে।

শেষ কথা

এনআইডি সংশোধন একটি আইনি প্রক্রিয়া, তাই এতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক। তবে ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদনের এই বিশাল চাপ কমাতে নির্বাচন কমিশন যেভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে, তাতে আশা করা যায় খুব শীঘ্রই সাধারণ মানুষ তাদের সংশোধিত NID কার্ড হাতে পাবেন।

Similar Posts

Leave a Reply